‘ইয়েমেন দুর্ভিক্ষের প্রতীক’ আমাল হুসাইন বেঁচে নেই
।হাসপাতালে শয্যাশায়ী সাত বছরের শিশু আমাল। তার শীর্ণকায় শরীর, ভীতু-ক্ষীণ চাহনি দাগ কেটেছিলো বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সংবাদ পাঠকের মনে। অনেকেই আমালের পরবর্তী শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন। কেউ কেউ চেয়েছেন সাহায্য করতে।
কিন্তু পাঠকদের সেসব আকুতি পেছনে ফেলে না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমাল হুসাইন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতাল থেকে চার মাইল দূরের এক শরণার্থী ক্যাম্পে বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) তার মৃত্যু হয়েছে।
আমালের মা মরিয়ম আলি কান্নাজড়িত কন্ঠে টেলিফোনে জানান, আমার মেয়ে সবসময় হাসিখুশি থাকতো। আমালের মৃত্যু আমার হৃদয় ভেঙ্গেছে। এখন আমি আমার অন্য ছেলেমেয়েদের বেঁচে থাকা নিয়ে ভাবছি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের বর্তমান অবস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন আমাল। টাইমসের গত সপ্তাহের এক সংবাদ প্রতিবেদনে তার দুর্দশাগ্রস্ত ছবি ছাপা হয়েছিলো। রাজধানী সানা থেকে ৯০ মাইল উত্তর-পশ্চিমের একটি শহরের ক্লিনিকে আমালের চিকিৎসা চলছিলো। সাথে ছিলেন তার ডেঙ্গু আক্রান্ত মা। দু ঘণ্টা পরপর নার্সরা আমালকে দুধ খাওয়াতে চেষ্টা করতেন। কিন্তু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আমাল খাবার খেতে পারতেন না। শুধু বমি করতেন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে যুদ্ধরত সব পক্ষই যুদ্ধাপরাধে শামিল: জাতিসংঘ

হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডক্টর মাহাদি বলছিলেন, দেখুন মেয়েটির অস্থিচর্মসার শরীর। শুধুই হাড়।
আমালের মা জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার তিনদিন পরই বমি ও ডায়রিয়ার কারণে আমাল মারা যায়। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার মেয়ে আমালকে গত সপ্তাহে হসপিটাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কারণ আমালের চেয়ে অসুস্থ শিশুদের জায়গা হচ্ছিলো না হাসপাতালে।
ডাক্তররা তাদের পরামর্শ দেন ১৫ মাইল দূরে ‘ডক্টর উইদআউট বর্ডারস হসপিটালে’ আমালকে নিয়ে যেতে। কিন্তু সে পরিবহন খরচ যোগানো আমালের পরিবারের সামর্থ্যে ছিলো না। শরণার্থী ক্যাম্পের সেবা ও আহারের অপর্যাপ্ততায় আমালের মৃত্যু হয়।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় আমালের পরিবার তিন বছর আগেই গৃহহীন হয়েছে। টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমাল শব্দটির আরবি অর্থ হচ্ছে ‘আশা’। পাঠকরা ভেবেছেন আমালের ওমন হৃদয়বিদারক গল্প ইয়েমেনের সংঘাত বন্ধে হয়তো কাজে আসবে!
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইয়েমেন যেন এক ধ্বংসস্তূপে। গৃহযুদ্ধের কারণে সেখানে জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় খাদ্যের দাম বেড়েছে শতকরা ৬৮ ভাগ। দেশটিতে সহিংসতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে খাবারের মূল্যবৃদ্ধি, ইয়েমেনি মুদ্রার দরপতন ইত্যাদি কারণে খাদ্য-নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে অধিকাংশ পরিবার। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে বর্তমানে ৫০ লক্ষ শিশু দুর্ভিক্ষের শিকার। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এর মধ্যে বড় একটি অংশ চলতি বছরই মৃত্যুবরণ করবে। ইয়েমেনে চলমান এই দুর্ভিক্ষকে আধুনিক সময়ের নিকৃষ্ট এক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
সারাবাংলাডটনেটে প্রকাশিত
